Offbeat destination | জঙ্গলের মধ্যে গাছে রাত কাটাতে চান? তাহলে চলুন Jhilimili, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম Tree house | Bengali Blog

আমাদের মতন যাদের পায়ের তলায় সর্ষে লাগানো, তারা সারাক্ষণই ভাবে কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায়? এবার মুশকিল হল সবসময় বাড়তি ছুটি ও পাওয়া যায় না। তাই চলুন এমন একটা জায়গায় আপনাদের আজ ঘুরতে নিয়ে যায় যেখানে আপনারা খুব সহজেই ঘুরে চলে আসতে পারবেন। বাড়তি পাওনা ট্রি হাউসে রাত্রি যাপন। শহরের সব কোলাহল দূরে সরিয়ে চলুন ঘুরে আসি পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা এই মিষ্টি জায়গাটিতে যার নাম ঝিলিমিলি।

কিভাবে যাবেন?
যদি ট্রেনে করে ঝিলিমিলি আসতে চান, তাহলে ট্রেনে করে বাঁকুড়া বা বিষ্ণুপুর স্টেশন চলে আসুন। সেখান থেকে গাড়ি করে ঝিলিমিলি। অথবা হাওড়া বা সাতরাগাছি থেকে ট্রেনে করে চলে আসুন ঝারগ্রাম। সেখান থেকে ঝিলিমিলি মোটামুটি ৬৫ কিলোমিটার, গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন। যদি বাসে আসতে চান তাহলে চলে আসুন

 মুকুটমনিপুর সেখান থেকে ঝিলিমিলি দূরত্ব ওই 40 কিলোমিটার মতন। গাড়ি করে আসতে চাইলে বেস্ট রুট হল কলকাতা - খড়গপুর - ঝাড়গ্রাম - বেলপাহাড়ি - ঝিলিমিলি। রাস্তাটাও খুবই সুন্দর। গাড়ি করে এলে পথেই পড়বে চিল্কিগড় কনক দূর্গা মন্দির। গাড়ি পার্ক করে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে কিছুটা পথ আসলেই আপনি দেখতে পাবেন এই মন্দির।

প্রায় ৫০০ বছর আগে রাজা গোপিনাথ এই মন্দিরটি তৈরি করেন। মন্দিরটির একটু দুর দিয়েই বয়ে চলেছে দুলুং নদী। আপনি চাইলে কিছুটা সময় এখানে কাটাতেই পারেন। এরপর ঘুরে নিন চিলকিগড় রাজপ্রাসাদ।

কোথায় থাকবেন?
এখানে আপনারা রিমিল ইকো ট্যুরিজমের অন্তর্গত রিভিল গেস্ট হাউস অথবা রিসোর্টে থাকতে পারেন। এছাড়া আপনারা চাইলে টেন্ট কটেজ অথবা নর্মাল কটেজ অথবা ট্রি হাউসেও থাকতে পারেন।

 এখানকার ঘরগুলি খুবই পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন তবে এখানকার ঘর গুলিতে কোন ফ্যান নেই তবে এসি আছে। এখানকার বারান্দা থেকে পুরো জঙ্গলের খুব সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়। পুরো জায়গাটা শাল বন দিয়ে ঘেরা। হিমেল হাওয়ায় শাল গাছের পাতা ঝরে পড়তে দেখতে আপনার বেশ ভালই লাগবে। এখানে ময়ূরের অবাধ বিচরণ চোখে পড়বে।

কি কি দেখবেন?
যেদিন যাবেন সেদিন পৌঁছতে পৌঁছতে প্রায় দুপুর হয়ে যাবে। পৌঁছে ফ্রেস হয়ে লাঞ্চ শেষ করে একটু রেস্ট নিয়ে নিন। তারপর বিকেল বিকেল বেরিয়ে পড়ুন তালবেড়িয়া ড্যাম সূর্যাস্ত দেখার জন্য। এটিকে লেক ও বলতে পারেন। জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বলে বোঝানোর মত নয়। পুরো লেকটির চারপাশ ছোট ছোট টিলার মত পাহাড় দিয়ে এবং পাহাড়ি জঙ্গল দিয়ে ঘেরা। লেকের জলে প্রতিফলিত পাহাড়ের

 প্রতিবিম্বগুলি যেন মনে হবে ছোটবেলায় হাতে আঁকা ছবি। আপনারা ইচ্ছা করলে লেকের জলে নৌকা বিহারও করতে পারেন। জনপ্রতি 100 টাকা। শীতের রাতে চাঁদের আলোয় জঙ্গলের মধ্যে করে ফেলুন বন ফায়ার। । সে এক অদ্ভুত অনুভূতি। আর যদি পূর্ণিমার রাত হয় তাহলে তো কোন কথাই নেই।

পরের দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়ুন এবং পায়ে হেঁটে বেরিয়ে পড়ুন গ্রামটি কে নিজের মনের মতো করে চিনে নিতে। চারদিকে বিস্তীর্ণ ধানের ক্ষেত আর দূরে ছোট ছোট পাহাড়। সে এক অপূর্ব পরিবেশ। গ্রাম দেখে ফেরার পথে ঘুরে নিন সুতাং ফরেস্ট। এই ফরেস্টের মাঝখানে রয়েছে একটি ওয়াচ টাওয়ার যেটি থেকে পুরো সুতাং ফরেস্ট টিকে পাখির চোখে দেখে নিন।

এরপর রিসোর্ট থেকে চেক আউট করে স্টেশনে উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পথে আপনারা ঘুরে নিতে পারেন জল পাহাড় এবং জল পাহাড় কেভ। তবে এই কেভটিকে দর্শন করতে চাইলে আপনাকে অনেকটা পাহাড় ট্রেক করে উপরে উঠতে হবে। ট্রেকিংয়ের এই পুরো রাস্তা টাই পাথরের। তাই একটু সাবধানে আপনাদের উপরে উঠতে হবে।

আর আপনাদের হাতে যদি আরও দুই একটা দিন সময় থাকে তাহলে এখান থেকে আপনারা ঘুরে আসতে পারেন কাঁকড়াঝড়, বেলপাহাড়ি গ্রাম এবং সেখানে আপনারা চাইলে রাত্রি বাসও করতে পারেন।

Comments