এই শীতের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে বর্ধমানস্থিত অরণ্যসুন্দরী ভাল্কিমাচান।

ভ্রমণপিপাসু বাঙালির মন সবসময়ই উড়ু উড়ু। ছুটি পড়লেই মানুষ দলে দলে পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্রে ভিড় জমাচ্ছে। ট্রেনের টিকিট অমিল। হু হু করে বিকোচ্ছে বাস এবং বিমানের আসনও। এমতাবস্থায় গহীন অরণ্যের নির্জনতায় অবকাশ কাটাতে ঢুঁ মারাই যায় কাছে পিঠে সুন্দরী ভাল্কিমাচানে। শাল-পিয়ালের বন, যমুনাদীঘি এবং ইতিহাস যেখানে কথা বলে।

অবস্থিতি
কলকাতা থেকে ১৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ভাল্কিমাচানে রয়েছে শাল-পিয়ালের জঙ্গল। পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা বনাঞ্চলের অন্তর্গত এই অরণ্য কোন এক সময় জমিদারদের দাপট ছিল বলে শোনা যায়।

কিভাবে পৌঁছবেন
কলকাতা থেকে সড়কপথে নিজস্ব গাড়িতে সরাসরি পৌঁছে যাওয়াই যায় ভাল্কিমাচানে। কিন্তু যারা শিয়ালদহ, হাওড়া কিংবা কলকাতা স্টেশন থেকে রওনা হবেন ট্রেনে, তাঁদের নামতে হবে গুসকরা স্টেশনে। সেখান থেকে অটো, বাস কিংবা ভাড়ার গাড়িতে গন্তব্যে পৌঁছতে 30 থেকে 40 মিনিট সময় লাগবে।

কেন এমন নাম
কিছু মানুষের মতে এই জঙ্গলে বহু আগে নাকি ভাল্লুকের আনাগোনা ছিল। জমিদার আমলে ওয়াচ টাওয়ার বা মাচান থেকে সেই প্রাণীদের দর্শনও মিলিত। সেখান থেকেই চলত ভাল্লুক শিকারও। দুইয়ে মিলে এই স্থানের নাম নাকি রাখা হয় ভাল্কিমাচান। যেখানে এখনো মাঝে মাঝে দর্শন মেলে বন্য প্রাণীর। যদি ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকে তাহলে দেখা মিলতে পারে হাতিরও।

কি অনুভব করবেন
ভালকি জঙ্গলের মধ্যেই রয়েছে বনবাংলো, যার নাম অরণ্যসুন্দরী। যার পাশেই মাটি কেটে তৈরি করা হয়েছে যমুনাদীঘি। যেখানে চাইলেই বোটিং করতে পারেন পর্যটকরা। বিরাট জলাশয়কে ঘিরে রয়েছে গোলাকৃতি বাগান। যার শোভা বর্ধনে হাজির নানা রং এবং গন্ধের ফুল।

রাস্তার অন্য ধারে জঙ্গলে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে বহুকালের ওয়াচ টাওয়ার বা ইঁটের মাচান। যেখানে বসে জমিদাররা বন্যপ্রাণী সংহার করতেন বলে শোনা যায়। আবার অনেকের মতে এই মাচান থেকেই শত্রুদের ওপর নজর রাখতেন রাজার সৈন্যরা। পাঁচটি স্তম্বের মাঝে খানিকটা জায়গা নিয়ে তৈরি করা লোহার জালে ঢাকা কুয়ো নাকি প্রাচীন সুরঙ্গ। যা ২৫ কিলোমিটার দূরে বর্ধমান রাজবাড়িতে শেষ হয়েছে বলে দাবি। স্বদেশী যুগে এই গোপন পথ বিপ্লবীরাও ব্যবহার করতেন বলে অনেকের মত। সেই স্থান এবং আশেপাশের অরণ্যে গা ছমছমে ভাব অনুভূত হবেই।

খানিকটা এগোলেই দেবদারু, আমলকি, হরিতকি, শাল, সেগুনের বনে নানা রঙের পাখির কলতানে মন হারিয়ে যেতে চায়।

কখন আসবেন
মূলত শীতকালই হল সঠিক সময় এই স্থানটি এক্সপ্লোর করার জন্য। কিন্তু একটি কথা মনে রাখবেন বর্ষাকালে কখনোই এখানে আসবেন না। কারণ এখানে সাপের খুবই উপদ্রব। শীতকালই তাই সঠিক সময়।

Comments